ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ ()

চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধুকে ধর্ষন মামলায় শ্বশুর গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ওমর আলী নতিপোতা গ্রামের মৃত নুহু নবী শেখের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওমর আলী তার পুত্রবধূর ঘরে শিশু সন্তানকে নিয়ে আসার কথা বলে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে পুত্রবধূকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ পরিবারের সদস্যদের কাছে বিচার দাবি করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে তিনি ২১ মে বাবার বাড়ি রংপুরে চলে যান এবং ২২ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর বুধবার দিবাগত রাতে নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় শ্বশুর ওমর আলীর নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরপরই বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওমর আলীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ভিন্ন আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরেই শ্বশুরের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, ওই নারী এর আগেও নিজের স্বামীর বিরুদ্ধে শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে তাকে হয়রানির চেষ্টা করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের পরিবারে কলহ চলছিল। একপর্যায়ে ওমর আলীর ছেলে আব্দুস সালাম তার স্ত্রীকে তালাক দেন। তালাকের পরও ওই নারী জোরপূর্বক সাবেক স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়রা আরও জানান, বিষয়টি একাধিকবার সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এছাড়া কিছুদিন আগে ওই নারী আলমডাঙ্গা এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন বলেও তারা উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান, ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ওমর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমের জন্য পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্য দিয়ে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মামলার অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।


     এই বিভাগের আরো খবর